সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

আমি হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত নই

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
আমি হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত নই। আমি ঢাকায় চাকুরি ও তার পাশাপাশি ব্যবসা করি এবং ঢাকায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। এভাবেই বলছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী কোটিপতি মজিদুল ইসলাম।
দেশে যখন মাদন বিরোধী অভিযান অব্যাহত ঠিক সেই নিজেকে বাচাঁতে ঢাকার শীর্ষ কুখ্যাত হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী মজিদুল ইসলাম বর্তমান আ’লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে তার মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দির্ঘদিন মাদক ব্যবসা করে বর্তমানে মজিদুল কোটিপতি বনে গেছেন। নিজেকে বাচাঁতে এবং তার মাদক ব্যবসা চালার জন্য সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরজ্জামান আহমেদ এম.পি’র সাথে মজিদুল ইসলামের ছবিযুক্ত ব্যানার জেলার বিভিন্ন স্থানে সাটানো হচ্ছে। এ কারনে জেলা আ’লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ এবং গোটা জেলায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বহুল আলোচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মজিদুল আওয়ামীলীগের ব্যানারে আসায় এবং দলীয় ব্যানারে তার মাদক ব্যবসা পরিচালনা করায় লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন আ’লীগ নেতা একেএম হুমায়ুন কবির।
মজিদুল ইসলাম আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরদারটারী শালমারীদিঘী গ্রামের মৃত ফজলুল হক ওরপে (আরিফ ফজলু ডাকাত) এর ছেলে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, মজিদুল ইসলাম ঢাকার শীর্ষ হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। একজন সামান্য মাদক বিক্রেতা থেকে বর্তমানে তিনি এখন কোটিপতি। সম্প্রতি সাপ্টিবাড়ী বাজারে ৭০শতক জমির উপর ৫তলা শপিংমলসহ শতাধিক বিঘা আবাদি জমি কিনেছেন। যে এক সময় ভাত পেতো না আজ সে মরণ নেশা হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। অভাব অনটনের কারণে লেখাপড়া করা সম্ভব না হওয়ায় ২০০০ সালের দিকে সে পরিবারের আহার জোগাতে হঠাৎ একদিন কাজের সন্ধানে ঢাকায় যায়। প্রথমদিকে সেখানে সে রিক্সা ও পরে হোটেল বয় হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় দেশের শীর্ষ হেরোইন ও ইয়াবা কারবারী সম্প্রতি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত জাকু ও লেদার নুর মোহাম্মদের সাথে তার গভীর সর্ম্পক গড়ে উঠে। এরপর থেকেই সে নুর মোহাম্মদ ও জাকুর চেইন অব কমান্ড হিসাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপদে হেরোইন ও ইয়াবা পাচারের দায়িত্বভার গ্রহন করে এবং পাচার কাজে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় একাধিকবার থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ ধরা পড়ে জেলহাজতে যায়। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মাদক মামলা রয়েছে। হেরোইন ও ইয়াবার কালো টাকার পাহাড় দিয়ে ঢাকাস্থ ফার্মগেট ও মালীবাগ এলাকায় বসবাস করলেও সেখানে নামে বেনামে ফ্লাটবাসাসহ অঢল সম্পদ ক্রয় করেন। এর চলে আসেন নিজ জেলা লালমনিরহাটে। লালমনিরহাটে এসেই ঢাকার পাশাপাশি জেলার আদিতমারী উপজেলাধীন রজব মাষ্টারের নিকট থেকে ঠাকুরানীর দোলা-৪ একর ৩২ শতক, কামালের নিকট থেকে ঠাকুরানীর দোলায় ২৭ শতক, সামাদ আলীর নিকট থেকে ঠাকুরানীর দোন ১ একর ৩৫ শতক, মজিয়া মার্কেট সাপ্টিবাড়ী বাজারে ৭০ শতক, সারপুকুর ইউনিয়নের রকিবের নিকট থেকে ভেরভেরির দোলা ৫৪ শতক, কাইয়াধনি নিকট থেকে দৈলজোড়ের দোলায় ২ একর ১৬ শতক, মজিবর রহমানের নিকট থেকে সালমারদিঘী ৫৪ শতক, হারেচের চাতালের সামনে ১৫ শতক, পঁচাপাগলা নিকট থেকে বকরিটারী ২৭ শতক, প্রমোদের নিকট থেকে কালিবাড়ি ১৫ শতক, লিয়াকত আলীর নিকট থেকে ডাকাতপাড়া ৫৪ শতক, কালামের নিকট থেকে শালমারারদিঘী ২২ শতক, লালমনিরহাট শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় ২০শতক জমি ক্রয় করেন। এলাকার লোকজন মনে করছেন বর্তমানে সে এখন ১শ কোটি টাকা বা তার অধিক টাকার মালিক হয়েছেন।
এছাড়াও বর্তমান তার গ্রামের বাড়ি আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে সরদারটারী শালমারীদিঘী গ্রামে বিলাস বহুলবাড়ি ও সাপ্টিবাড়ী বাজারে লালমনি-পাটগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ৭০শতক জমির উপর ৫তলা শপিংমল নির্মাণাধীন রয়েছে। হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী মজিদুলের অর্জিত এসব সম্পদ মজিদুল তার নিজ নামের পাশাপাশি ২ছেলে পরশ, নুরনবী, তার মা মজিয়া, বউ রুমি ওরুপে রেহেনার নামে বেনামে ক্রয় করেছেন। যা তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে।
অপরদিকে দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানের ভয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরজ্জামান আহমেদ এম.পি, সারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল হক প্রধানের সাথে বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মজিদুল ইসলামের ছবিযুক্ত ব্যানারে ছড়াছড়ি হওয়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বহুল আলোচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মজিদুল এখন আওয়ামীলীগের ব্যানারে আসায় লালমনিরহাটসহ সারাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ফলে হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী মজিদুলের অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারের কোষাগারে জমা করা জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দাবী জানান এলাকার সচেতনমহল।
এ বিষয়ে মজিদুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত নই। আমি ঢাকায় চাকুরি ও তার পাশাপাশি ব্যবসা করি। ঢাকায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আ’লীগ নেতা একেএম হুমায়ুন কবির বলেন, মজিদুল ইসলাম ঢাকার শীর্ষ হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। সামান্য মাদক বিক্রেতা থেকে সে এখন কোটিপতি। অল্পদিনের মধ্যে ৭০শতক জমির উপর ৫তলা আলিশীয়ান শপিংমলসহ শতাধিক বিঘা আবাদি জমি কিনেছেন। তার আয়ের ঊৎস কি? দেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ায় নিজেকে বাচাঁতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন আ’লীগ নেতার সাথে বহুল আলোচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মজিদুলের ছবিযুক্ত ব্যানারে ছড়াছড়ি। এজন্য এলাকার সচেতনমহলসহ জেলা আ’লীগ নেতা কর্মীদেও সমালোচার ঝড় উঠেছে। তাই এর প্রতিকার চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com